Thursday, February 4, 2010

বিড়াল পুষবো

সমস্যা আছে। সবকিছু ঠিক চলছে-ভালো চলছে। হঠাৎ করে রিয়েলাইজ করি, আমি এদের কেউনা। নিজেকে তখনি সবার থেকে সরিয়ে নিতে ইচ্ছা করে। আর সবসময়েই দেখি, আমি সরে গেলে সে'জায়গা কখনও ফাঁকা থাকেনা। ক্রমশ গুটিয়ে যেতে যেতে দেখি, এখন কেবল কবরের তলায় যাওয়াই বাকি। অথচ এমন কেউ নেই যার কাছে ফিরে যেতে চাইতে পারি। পুরা সপ্তাহ এতো কাজ-- স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং-প্রোজেকশন-বিজনেসকেস। আবার কনসেপ্ট পেপার লেখা। আজকে বস বলে ছয়টায় চলে যেতে-- উইকেন্ডে অফিস করা হবে। অথচ ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ সন্ধ্যা ছয়টার সময় আমার কোথাও যাওয়ার নাই।

Thursday, January 28, 2010

জানালা

১.
তাকে আমি আর দেখিনা বা খুঁজিনা। মনেমনে খুঁজি কিনা জানিনা। সে কি আমাকে মনে মনে খোঁজে? অথচ একই জগতে প্রতিদিন বিচরণ। ভালোবাসাকে কোলকাতার রাস্তায় দুপুরবেলায় ফেলে এসেছি। আমার আর কোনোদিন কোথাও ফেরা হয়না। এনকোড। ঘুম। কাজ। । স্মৃতিহীন।
ফেইসবুক স্ট্যাটাসঃ ফেলে এসেছি তোমাকে ২০০৯এ।
মুছে ফেলে
আবার স্ট্যাটাসঃ ফেলে এসেছি তোমাকে ২০০৯।
মুছে ফেলে
২০০৯।
মুছে ফেলে

কিছুনা'কে কী দিয়ে লেখে?
কিনে এনেছি স্যামুয়েল বেকেট।

২.
এই জানালার পাশে এই শেষ ব্লগ লেখা। কালকে রাতে নতুন বাসা, নতুন স্টেশন। মা বলে পুরান জমিয়ে রাখা কিছু কাগজ, খাতা, ফেলে দিতে। পুরোনো চিঠি, পুরানো বই, মেহেরজান। হলুদ হয়ে গেছে। রঙ উঠে গেছে জায়গায় জায়গায়। অনেক কথা বলার দিন শেষ। তাই বিলবোর্ডে দেখবো নীরবতার বিজ্ঞাপন। আর প্যারাসুটের শায়না। তোমাদেরকে দূর থেকে খুব সুন্দর লাগে। তোমরা সবাই ভালো থেকো।

Friday, November 20, 2009

পোল

ব্লগের পুরানো পাতা উলটে দেখছিলাম। বারো পাতা পেছনে একদম প্রথম পোস্ট প্রায় আড়াইবছর আগের। মনে হলো ব্লগ রাখা ভালো। পলকে পলকে পার হয়ে যাওয়া প্রতিশ্রুতির বছরগুলির অনেকগুলি স্থিরচিত্র ধরে রাখা আছে এইখানে। সময়ের সাথে বদলেছে আমার জীবনযাত্রা, বোধ, এবং অভিব্যক্তি। বন্ধু পেয়েছি এবং হারিয়েছি অনেক। নতুন নতুন পাতার পেছনে চাপা পড়ে যাওয়া পুরোনো পাতাতে সেই দিনগুলি ঠিকই ঘুমিয়ে আছে। হারানো সময়ের মতো একটি দু'টি করে পুরোনো প্রিয় লেখা। পুরোনো, সামান্য, কিন্তু আমার কাছে অমূল্য। কিন্তু সেগুলি কি আর কেউ কোনোদিন পড়ে দেখবে? ভিজিটরদের কাছে অনুরোধ, নিচের পোলে অংশগ্রহণ করে আমাকে একটু সাহায্য করুন।

আপনি এই ব্লগের ক'টি পাতা পড়ে দেখেছেন?


Wednesday, November 11, 2009

একা

আমারও খুব ইচ্ছে করে
হাঁটি-- সন্ধ্যা মুছে, অন্ধকারে
চাঁদকে নামাই লেবুগাছের ছাদে
নতুন জামার বিকেল বেলার কৃষ্ণচূড়া
রঙ এঁকে নিই আলপনা দেই হাতে

আমারও খুব ইচ্ছে করে
আবোল তাবোল ময়না পাখি
বেড়াল ছানা খয়রি রঙের রাখতে চেপে বুকে
নদীর জলের মেঘের আলোর মরচে ধরা
একটি ছবি আঁকি

পাখনা এঁকে শীত সরালীর
শীতের শেষে ওদের সাথে উড়ে
উড়ে উড়ে উড়ে উড়ে
মাটির বুকে একটি যেন শুকনো পাতা
হারাই যেনো তেমনি করে অনেক দূরে

আমার যে খুব ইচ্ছে করে
পালক হাতে আলগোছে খুব
জলের মতোন আঁজলা ভরে
ঘূর্ণি হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে ঘুড়ি
নৌকা হয়ে হারিয়ে যাই ঝড়ে

ঘরের কোণে গানের মতো বেজে বেজে অকারণে
থেমে যাওয়ার অনেক আগে
চিৎকারে সব জানলাগুলোর কাঁচের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিতে
জানালা নয় আমার যে খুব
বাতাস হতে ইচ্ছে করে