Feb 18, 2011

ভালো দিন মজার দিন

তারেক বললো বইমেলাতে আসো, খুব সুন্দর বাতাস, কিন্তু কেউ নাই। বাইরে বের হয়ে দেখি শীত করে, কিন্তু অনেক আলো। মরিচবাতি। মেলাতে এসে দেখি অনেক দোকান বন্ধ, আর বাতাসে গাছের পাতা উড়ে। এমন মজার মেলা কখনও দেখিনি। আবার দেখি মাথার উপর বাজি ফুটে। ভিড় ঠেলে বাইরের টিভিতে দেখি নাচ। লেজারলাইট। মাথার উপরে আতশবাজি। তারপর টিভিতেও। বনিকের আবার মন খারাপ। কেনো যে দেখতে গেলোনা ওপেনিং সেরিমোনি। তাই আমরা ওকে নিয়ে গেলাম শর্মাতে। আর ইন্ডিয়ান ফুড খেতে খেতে টিভিতে ইন্ডিয়ান সুন্দরী দেখে তাদের আর আশ মেটেনা।

তারপর আমরা হাঁটতে হাঁটতে আমার বাসার পথ ধরলাম। পুরা শহর আজকে মরিচবাতি দিয়ে সাজানো। যেনো আজকে এই শহরের বিয়ে। আজকে ঢাকাতে যার বিয়ে ছিলো তার খুব মজা। পুরা শহর তার বিয়েতে সাজানো হোলো। আর আজকে বাতাসে উড়ছে খালি পাতা। আমের ফুলের গন্ধ আর মাঝেমাঝে বাদুড়।

আমরা যখন পরীবাগ ব্রিজের উপরে তখন নিচে দিয়ে ট্রাকে করে ভুভুজেলা বাজিয়ে ফিরছে ছেলেপেলে। বাংলাদেশের মানুষ এতো সুখী কেন? আর আমার মনেই বা কেন এতো সুখ? ফেইসবুকে পলিটিকাল ভিউঃ এন্টি-ন্যাশনালিস্ট। আর আমার এই কান থেকে ওই কান হাসি, যেনো পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে একটা প্রাইজ পেয়েছি। এতো অসাধারণ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী কেউ আগে দেখেছে কোনোদিন? 

পরীবাগ ব্রিজ রাত ১১টা






ফা তোমাকে মনে পড়ে

































ভুঁড়ির জন্য ছবি ক্রপ




















সব্জিবাগানের শুমশাম রাস্তা কেবল কয়েকটা গানের দৈর্ঘ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে সহসা শেষ হয়ে যায়। এতো গান আছে শোনার মতো, গান শুনে শুনে পার করে দেবার একটা জীবন পেলে ভালো হোতো।

সাড়ে এগারোটায় আশুর বাসায় পৌঁছাইসি, তারপর আশু রাস্তার পাশের একটা টংয়ে চা খাওয়াইসে, পূর্ণিমার লুটোপুটি জ্যোৎস্নায় আমাদের সুন্দর একটা ছবি তুলে দিসে। তারপর আমরা বাসায় আসছি।

বাচ্চারা লাইন ধরে দাঁড়াও



















ক্যান জানিনা খুব মজা লাগসে আজকে। প্রায় কান্না এসে যাওয়ার মতো মজা। মনেহয় বাতাসের দোষ। শালার ফাগুনের আগুন লাগাই, সেই আগুনে বিড়ি ধরাই আর বসন্তের ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাসের খেতা পুড়ি। তারপর বনজঙ্গলের ছবি দেখে সত্যি সত্যি কানতে কানতে ঘুমাতে যাই।

8 comments:

yfsrain said...

পোস্ট ভালৈছে। ভাবারসপূর্ন পোস্ট। :)

যদিও আমি রাতবিরাতে ঘুড়া পছন্দ করি না তাও হিংসা দিলাম। :P :P

''দ্রাক্ষা ফল অতি টক'' ;)

অন্দ্রিলা said...

রাতবিরাতে বেশিবেশি করে ঘুরতে চাই। লন্ডন গেলে আমারে ঘুরাইও।

দেখি এডিট কইরা ভাবরসের আধিক্য কমান লাগবো।

ঘুমাইতে যাই।

অনার্য সঙ্গীত said...

পোস্ট পইড়া আমিও আবেগে ইনফেক্টেড হইলাম। এমনিতেও বিশ্বকাপের উদ্বোধন দেখে বেশ আবেগে মথিত ছিলাম। পোস্ট ছোট হইছে এইজন্য মাইনাস! তারেকের সঙ্গে ছবিটা বেশি বেশি অন্তরঙ্গ হইছে এইজন্য আরো মাইনাস! তোমাদের সব সুখে আগুন লাগুক :(

অন্দ্রিলা said...

আজকে এতো আনন্দ লাগসে প্রোগ্রাম দেখে, আর এতো গর্ব হচ্ছিলো। অনেক লোকের সাথে রাস্তায় দাঁড়ায় টিভি দেখতে খুব মজা লাগসেরে ভাই।

স্কুল অভ লাইফ ভিডিওটা দেখসো? বেশি জোশ না?

আর কী লিখবো বেশি তো লিখতে পারিনা। তারেকের সাথে ছবিটা বেশি অন্তরঙ্গ হয়ে গেছে বলছো? আবার ডিনারের পর ডেজার্ট খাইতে ইচ্ছা করতেসিলো দেখে তারেক আজকে আমারে চকলেট খাওয়াইসে। খাইসে মাথায় আমারে এখন থেকে একটা হেলমেট পরে ঘুরতে হবে।

serialkiller said...

হাঁটার পার্টটুকু খুবই ভালো ছিলো, স্পেশালি তারেক আমার পিঠ থেকে ব্যাগটা নিয়ে নিজে ক্যারি করার পর থেকে। গতকালকে এমনেও মেজাজ ভালো ছিলো, কতোগুলা বই কিনলাম!

ছবিগুলি ভালো আসছে (সব কৃতিত্ব ফটোগ্রাফারের)। খাওয়ার বর্ণনা, স্পেশালি মাটন রারা ডিশটা আরো মনোযোগ দাবি করে।

যাই হোক, ঘুরাঘুরি সংক্রান্ত এইসব লেখা ভালো- নিজেদের স্মৃতিচারণ, অন্যদের একটু জ্বালানো।

অন্দ্রিলা said...

এখনি তারেক আইসা বলবে বিফ সিমলা মির্চ মাসালা বেশি ভালো ছিলো। লেখাটা এডিট করার পর এখন পচা হয়ে গেছে। কিন্তু আর রিভাইজ করতে ইচ্ছা করতেসেনা। যা আছে থাক।

toxoid_toxaemia said...

তারেক আর টুটুলের মাঝে দাঁড়ানো তোর ছবিটা দেখে মনে হচ্ছে তুই ওদের সমান হবার চেষ্টা করছিস। বর্ণনাটা দারুন হইসে। আর টুটুলের ছবি ক্রপ করার মন্তব্য দেখে মজা পাইসি।

অন্দ্রিলা said...

:) তারেক পাচ সাত বনিক পাচ নয়। সমান হওয়ার চান্স নাই।