Jun 21, 2011

আমার আর কোথাও যাবার নেই

একটা ব্লগ লেখা বাকি ছিলো।

অনেকগুলো ব্লগ লেখা বাকি ছিলো। অনেক সময়ে। শুরুতে উল্লিখিত ব্লগটি সাম্প্রতিকতম। কিন্তু সেইদিন আমার খুব মন ভালো ছিলো। আজকে আবার মনটা বেশি ভালোনা। তাই লেখা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছিনা।

পুরান ঢাকা গিয়া মন ভালো হয়ে গিয়েছিলো। অনেকদিন ধরে পুরান ঢাকা যেতে ইচ্ছা করছিলো। শহীদুল জহির পড়ে। আজম খান শুনে শুনে। শৈশবে বরিশাল থেকে ফেরার সময় লঞ্চ থেকে ল্যান্ড করে পুরান ঢাকার মধ্যে দিয়ে বাড়ি ফিরতে হোতো বলে, হয়তো।

আমাকে একজন একটা দুই মিনিটের ছবির গল্প বলছে। আমি ভাবছি। কী লিখতে চেয়েছিলাম ভুলে গেছি।

পুরান ঢাকা কাদার ভিতরে পড়া একটা তেলতেলে পাথর। যা বৃষ্টির দিনে সুন্দর হয়ে ওঠে। (সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে)

ব্যাপারটা গঙ্গাপূজা না দেখা থাকলে বোঝা যাবেনা।

ঠাকুমা বাড়ির পাশের নদীতে গঙ্গাপূজা করতেন। পূজার একপর্যায়ে জলের মধ্যে তেল, সিঁদুর দিতে হয়। তেল দিলে, জলের মধ্যে রংধনু তৈরি হয়। অপূর্ব লাগে দেখতে। সব নদীতেই গঙ্গাপূজা করা যায় কারণ সব নদী গঙ্গাতে গিয়ে পড়ে।

ছোটোবেলাতে অনেক ডায়রি লিখতাম। ক্লাস সেভেন থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক বছরগুলাতে তিনটা ডায়রি লিখে ভরে ফেলেছিলাম। একটা পছন্দের কালো ডায়রি ছিলো, পরে আর জার্নাল না রাখলেও। কাব্যপ্রচেষ্টা তার মধ্যে থাকতো। এক বছর আগে ডায়রিটির সব পাতা শেষ হয়ে যাওয়াতে আমি আর কবিতা লিখতে পারিনা। গত ছুটির দিনে নীলখেতে অনেক খুঁজে টুটুল আমি কাছাকাছি ধরণের একটা ডায়রি পেয়েছি। তবে তাতে কিছু লেখা হয়নি কারণ প্যাকেট খোলা হয়নি। টুটুল বলেছে এখন কবিতা লিখতে না পারলে অর্ডার দিয়ে ডায়রি বানিয়ে দিবে। ভাবছি না লিখে বসে থাকি। দেখি আসলেই দেয় কিনা।

সেদিন আমার মন ভালো ছিল কারণ সেদিন আমি অনেক হেঁটেছি। আর পথে কাদা মেখে পড়ে ছিলো স্তূপ স্তূপ কৃষ্ণচূড়া। ভালো কথা আজকে সন্ধ্যায় আমাকে এক বন্ধু জিগাইসিলো সবচাইতে জটিল ফুল কোনটা। তখন বলসিলাম গন্ধরাজ। সে বলসিলো চালতা। সে একটা চালতা ফুলের ছবি তুলসে। এখন আমার মনে পড়লো সবচাইতে জটিল ফুল কৃষ্ণচূড়া। ক্যান, জিগাইলে বলতে পারবো না। হুদাই।

সেদিন আমার মন ভালো ছিলো কারণ সেদিন আমি অনেক হেঁটেছি। কর্পোরেট লোকজন সম্ভবত এইকারণে এমন ইগোসেন্ট্রিক জার্ক হয়। কারণ তারা হাঁটাহাঁটি করার সুযোগ পায়না। ভিতরে তারা বিষণ্ণ আর রাগ থাকে। আর একটু ভয়।

দুই মিনিটের ছবির গল্পটি আমার পছন্দ হয়নাই। আগেরকার দিনে সৃষ্টিশীল লোকজন সাহিত্য রচনা করতো। এখন দেখি অনেকেই মুভি বানাতে চায়। এটিকে কি নিউ মিডিয়া বলা যায়? নিউ মিডিয়া অনেকদিন ধরে আমার শেখা নতুন জার্গন আমি যার মানে জানিনা। উইকি করতে হবে। সম্প্রতি উইকি করছিলাম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স নিয়ে। কারণ এটা নিয়ে একটা সিরিয়াস লেখা লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখলাম লেখা ভালো হচ্ছেনা।কারণ সেদিন আমি মনে মনে, আশে পাশের অসংখ্য ডোমেস্টিক এবিউজের উপাত্ত একত্র করছিলাম, কিন্তু আসলে প্রায় উৎকণ্ঠা বোধ করছিলাম জুন শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আমার শহরে বড়ো বৃষ্টি হচ্ছেনা দেখে। তার আগেরদিনই আমি আর মা বাসায় ফিরছিলাম, আর মা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো আমাদের বাসার পথের ডেমোগ্রাফিকসের পরিবর্তনের দিকে। রাস্তার পাশের একতলা দোকানগুলি ভেঙে অনেক বড়ো বড়ো বিল্ডিং হচ্ছে। যেনো বিল্ডিঙের বীজ থেকে উদগত হচ্ছে বিল্ডিঙ।

ভাবনার সামারি রেকর্ড হয়ে থাকে ফেইসবুক স্ট্যাটাসেঃ যদিও গাছ বৃষ্টি আনে তবু আমরা কেবল বিল্ডিংয়ের চাষ করি। আমাদের দেশে বৃষ্টি নেই। পুস্করিনীগুলি শুষ্ক। সেখানে আরও বিল্ডিং হবে।

এবং ডোমেস্টিক এবিউজের একটি কারণ সনাক্ত করা যায়ঃ তুমি ছাদে একটা লেবুগাছ লাগাও, তোমার সমস্ত প্রতিবেশী গৃহকর্ত্রীদের তখন রান্নাতে লেবুপাতা দরকার হবে। তাই যখন তুমি একটা বড়ই গাছ লাগাবে, সেই মহিলাদের ছেলেরা গাছে বড়ইয়ের আভাস আসামাত্র ছিঁড়বে নির্বিকারভাবে। আমাদের দেশে ছেলেরা বৌ পিটাবে না তো কারা পিটাবে।

ভিতরে, ভিতরে, ভিতরে, খুব, শুষ্ক অনুভব করি। তখন আমার ইচ্ছা করে নদীটির ও ই পারে চলে যেতে। কিন্তু আমি কোথাও যাইনা। গান শুনতে ভালো লাগেনা কিন্তু গান শুনি। ফুল গাছটি লাগুইছিলাম ধুলা মাটি দিয়া রে/ সে ফুল ফুটিয়া রইলো অগম দইরার মাঝারে। গানটি শুনে আমার মনে পড়লো, বন্ধুর তোলা চালতা ফুলের ছবির কথা। আমার পিসির বাড়িতে একটি পুকুর আছে। পুকুরের বাঁধাই করা ঘাটের দুই পাশে দুইটা বসার জায়গা। তাদের মাথার উপরে দু'টি শিউলি গাছ। পুকুরের এই পাশে দুইপাশে চাম্বল গাছ। ওইপাড়ে আমলকি গাছ। তাতে অনেক বড়ো আমলকি ধরে, সুপুরির মতো বড়ো। ঘাট থেকে একটু দূরে একটি চালতা গাছ আছে। সেটিকে আমার সবসময় অনেক একা মনে হতো। মনে হতো অন্য গাছরা সব জোড়ায় জোড়ায় দল বেঁধে গল্প করে, সে একা চুপচাপ।

গাছের কাছে গেলে হয়তো তলায় চোখে পড়ে মাটির হাঁড়ির মতো একটা জিনিস। এটি মনসা পুজার ঘট। বরিশালে খুব এখানে ওখানে পড়ে থাকে। সেখানে মনসা খুব ইম্পর্ট্যান্ট দেবী, তাই। আমি অনেকদিন সেখানে যাইনা। কারণ আমার সময় নেই। যে ব্লগটি লেখা হয়নি সেটি আর লেখা হয়না। অনেক শহর দেখা হবেনা জীবনে। আমি গান শুনি।


ফুনো ১: বৃষ্টি বৃষ্টি দিনে ডেটিং মারি। বন্ধু বলে, তোমার লেখার সাথে ব্লগার কুলদা রায়ের লেখার মিল আছে। আমি বলি, কেমন? বলে, তোমাদের দুইজনের বাড়ি বরিশাল, তোমরা অনেক ফুলফলের কথা বলো। আক্ষেপ করি, জীবনানন্দ দাশের বাড়িও তো বরিশাল আর তার মতো ফুলফলের কথা আর কে বলে গেছে? :(

ফুনো ২: বন্ধু যেই প্রসঙ্গে কথাটা বলেছিলো। আমি দেখলাম রাস্তার পাশে বাচ্চারা বেতফল খাচ্ছে। বন্ধুকে জিগাইলাম, ছোটোকালে বেতফল খাইতা? সে চিনেনা। বললাম, স্কুলের সামনে কিন্তু বেতফল বিক্রি করতো না, ওরা বেচতো কাঠলিচু। অভাগা সেইটাও খায়নাই। আমি ছোটোকালে মামাবাড়ি গিয়া খুব বেতফল খাইতাম। অখাদ্য একটা ফল। টকটক, কষটা কষটা, একটু খাইলেই গলা ধরে যায়। খেয়ে ধরা খাইলে মা মাইর দিতো।

2 comments:

ভাঙ্গা পেন্সিল said...

আসলেই কুলদা রায়ের সাথে মিল আছে। দুই একটা কবিতা লেখেন...দেখি জীবনবাবুর সাথেও আছে কিনা!

অন্দ্রিলা said...

হ, কুলদা রায় আর আমি দুইজনেই মালু। এই ব্লগের খোঁজ কোথা থেকে পেলেন? জানেন আমি আপনার পাঙ্খা? =^_^=

আমি কবিতা লিখলে জীবনবাবুর কবিতার মার্কেট পড়ে যাবে। কিন্তু দেশের মানুষ, আবার গুরুজন লোক, তাই তাকে সম্মান করে আর লেখা টেখা হচ্ছেনা 0:3