Jun 21, 2009

কী সব স্বপ্ন

ট্রেনে করে যাচ্ছিলাম, তারপরে গাড়িতে। আবার যাচ্ছি দারজিলিং। আমাদের সেই আদি অকৃত্রিম দারজিলিং গ্রুপের সাথে। আগের অনেকবারের মত আমি আর টুটুল সামনে, ড্রাইভারের পাশে বসেছি। তপতীদিদি আমাকে শানের কনসার্টে যাবার কথা বলেনাই, তাই সরি বলার জন্য আমাকে একটা গিফট দিলো। সুন্দর র‌্যাপিং করা একটা প্যাকেট, মনে হয় ভেতরে আছে শেভ্রনের ডাইরি।

গাড়ি যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, আমার তো খুব বাথরুমে যাওয়া দরকার। গাড়ি থেকে নেমে দেখি, চমৎকার উজ্জ্বল একটা দিন, চারদিকে রোদ একদম ঝক ঝক করছে। অথচ ঝাঁঝ নেই রোদের, পাহাড়ের ছায়া পড়ে নরোম হয়ে রয়েছে। আমরা নেমেছি টিলা ঘেরা একটা বাড়ির সামনে, কেবল আমি আর টুটুল। বাড়ির দিকে না যেয়ে আমরা টিলা বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করলাম। টিলা জুড়ে শুধু বড়ো বড়ো ডেইজি আর প্যানসি। পাহাড়ের উপরে উঠে দেখি হলুদ ডেইজি আর প্যানসি আর লিলিফুলের কলি দিয়ে বানানো বড়ো একটা তোড়া। আমি টুটুলের দিকে ফিরে তাকিয়ে হাসলাম। টুটুল আমার আরও কাছে এগিয়ে আসলো।

এইখানে নাকি আমার দাদু এসেছিলো কোনো এককালে। তার তরুণ বয়সে। আমার দাদুর নাম নাকি অমল কান্তি। কী মুশকিল, কার না কার দাদুকে এরা আমার দাদু বলে ভুল করছে। আমার দাদুর নাম তো ছিলো সুধীর রঞ্জন। দাদু নাকি তখন এখানে বসে আমাকে একটা চিঠি লিখেছিলো। আমার আগ্রহ হলো, সেই নেই দাদুর নাতনিকে লেখা চিঠি পড়ে দেখতে। এখন থেকে সত্তুর বছর আগে এখানে এসে এই পাহাড়ে উঠে সেও কি আমার মতো একটা ফুলের তোড়া কুড়িয়ে পেয়েছিলো?

চিঠি পেতে হলে পোস্টম্যানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সে নাকি সবাইকে তাদের হারিয়ে যাওয়া নাই চিঠি পৌঁছে দিয়ে আসে। কালিম্পংয়ের বৈশাখীদের চিঠি দিয়ে আসে মেঘনার চরের সরালীদের কাছে। তাই আমরা সেই সুন্দর বাড়িটাতে গেলাম।

টিলার উপরে চারদিকে পাহাড়ঘেরা বাড়িটা ভারি সুন্দর, চারদিকেই বারান্দা দেখেছিলাম ঢোকার সময়ে। কিন্তু এখন আমি সেই কখন থেকে এঘরওঘর ঘুরঘুর করছি, কাউকেই আর দেখতে পাচ্ছিনা। মধ্যে যেন মনে হয়েছিলো টুটুলকে দেখতে পেয়েছিলাম একবার দুইবার। মনে হচ্ছিলো অনেকক্ষণ হয়ে গেছে, সন্ধ্যা নেমে গেছে বোধহয় বাইরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাইরে বেরিয়ে দেখি, বাইরে এখনও তেমনি ঝকঝকে রৌদ্রের উজ্জ্বল আলো। আর দূরের পাহাড় থেকে ডাকপিওন নেমে আসছে আমার চিঠি নিয়ে। দৌড়ে তার কাছে গেলাম আমি, তার খাতায় সাইন করে দিলাম, যে চিঠি বুঝে পেয়েছি। অথচ কোনো চিঠি তো আমার হাতে সে দিলোনা? বার বার খুব গম্ভীরভাবে মাথা ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে বলতে লাগলো, হুঁ হুঁ বাবা, এমন চিঠি পেতে জানতে হয়। গুচ্ছ গুচ্ছ ডেইজি ফুলের মধ্যে পোস্টম্যানের পুঁচকো ভুটিয়া কুকুরটাকে একদম কোনো আঁকা ছবির মতো লাগছিলো।

শুনলাম সেই ডাকপিওন নাকি পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। আমার মন খারাপ লাগলো, কেন যেন মনে হলো যে চিঠিটা সে আমাকে দিয়ে গেলোনা, সেটা বোধহয় আমারই চিঠি ছিলো।

ঘুম থেকে উঠে খুব মন খারাপ লাগলো। আজকে সকালে অফিসের বদলে চুল বেঁধে ব্যাগ নিয়ে কলেজে যেতে ইচ্ছে করছে।

7 comments:

Brishti Bilashini said...

shopno to thik jachilo...seshe eto boro dhakka dili keno? r tui ki ghumanor shomoi onek kichu bhebe ghumash naki?

r han, agamatha bujechi

অন্দ্রিলা said...

@ মিনাপু' শেষে এসে ধাক্কা দিলাম কই? ভাগ্যিস স্বপ্নটাই আমাকে ধাক্কা দিসিলো, তাই ঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠে অফিস যেতে পারসি আজকে। আর ঘুমানোর সময়ে আমি কিছুই ভেবে ঘুমাইনা... মরার মতো ঘুমায়ে যাই।

toxoid_toxaemia said...

পড়তে পড়তে লেখাটার ভেতরে ঢুকে গেছিলাম। আর তাই বুঝতেও পারিনি যে আসলে স্বপ্ন দেখছিলি। পরে এসে যখন আউলা লাগল স্বপ্নের মধ্যে তখন বুঝলাম আসলে এটা স্বপ্ন ছিল। মজার হয়েছে।

সবজান্তা said...

অনেক দিন পর লিখলেন, তাই না ?

স্বপ্ন দেখার কৃতিত্ব কেউ পাবে নাকি সেটা নিয়ে একটু মুশকিলে পড়লাম। যদি পায়, তবে আপনার কৃতিত্বের ঝুড়ি ভরে যাবে, স্বপ্নটা নিজেই এতো চমৎকার।

এবার আসি লেখার অংশে। লেখাটার প্রথম দুই প্যারা অনেকটা ব্যক্তিগত। ভালো মন্দ বলার কোন স্পেস নেই। তবে লেখার মূল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে সম্ভবত এর দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় অনুচ্ছেদের ট্রানজিশনে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদটা দারুণভাবে শুরু করেছেন। যেহেতু স্বপ্ন থেকেই অনুলিখিত ব্লগ, তাই মৌলিক কাহিনীর কৃতিত্ব হয়তো দিতে পারবো না, কিন্তু প্রকাশভঙ্গির অনন্যতার জন্য বাহবা পাবেন। অমলকান্তি থেকে সুধীররঞ্জন, পরাবাস্তবতা থেকে বাস্তবতা, সবটুকু মিলে মিশে একটা চমৎকার Blur Vision তৈরি করেছেন। সাধুবাদ।

এর পরের অনুচ্ছেদে চোখ আটকে গেলো ভুটিয়া কুকুরের বর্ণনায়। আপনি জানেন কীভাবে দৃশ্যকল্প আঁকতে হয়। পড়তে পড়তে যেন চোখের সামনেই পুঁচকো ভুটিয়া কুকুরটাকে দেখতে পেলাম।

আর পুরো লেখার প্রতি সুবিচার করেছেন অসাধারণ একটা শেষ অনুচ্ছেদ লিখে। এই পৌনে দুই লাইন সম্পর্কে একটা কথাই খাটে, নস্টালজিক। অফিসের ব্যাগের বদলে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে, আকাশী রঙের ইউনিফর্ম পরে কলেজে যাওয়ার দৃশ্যটা ভাবতে কষ্ট করতে হলো না। আপনার এই নস্টালজিয়ার ছুঁড়ি আমাদেরও বিদ্ধ করলো কি ?

খুব নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করেই বলছি, নিজের গদ্যের প্রতি আপনার সুবিচার করা উচিত, আরো বেশি পরিমাণে লিখে। এরই মধ্যে আপনার গদ্য বেশ ধারালো হয়ে উঠেছে। আশা করি পরামর্শটা ভুলে যাবেন না।

অন্দ্রিলা said...

ছুঁড়ি= ছুরি

হিহিহি

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ :D

সবজান্তা said...

বানানটা নিয়ে মাঝরাতে এমন কনফিউশন তৈরি হলো- এদিকে সারা বাসা খুঁজেও বানান অভিধানের খোঁজ পেলাম না।

কী আর করা, চুপচাপ অপমানটা সহ্য করতে হলো।

অন্দ্রিলা said...

খিক্ষিক্ষেক্ষেক্ষেক